ত্রিপুরায় নভেম্বরে চালু আরও ৬টি একলব্য স্কুল, বাড়বে আদিবাসী শিক্ষার সুযোগ

ত্রিপুরায় নভেম্বরে চালু আরও ৬টি একলব্য স্কুল 

আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ত্রিপুরার শিক্ষাক্ষেত্রে বড় খবর। রাজ্যে আরও ৬টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় (Eklavya Model Residential School বা EMRS) নভেম্বরের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই ছয়টি নতুন স্কুল চালু হলে ত্রিপুরায় কার্যকর EMRS-এর সংখ্যা ১২ থেকে বেড়ে ১৮টি হতে পারে। প্রত্যন্ত ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার শিক্ষার্থীদের আবাসিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। 

ত্রিপুরায় নভেম্বর ২০২৬-এ চালু হতে চলা নতুন ৬টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়


ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দফতরের অধিকর্তা সুভাষিশ দাস জানিয়েছেন, নতুন ছয়টি EMRS-এর নির্মাণকাজ প্রায় সম্পূর্ণ। কিছু জায়গায় সামান্য কাজ বাকি থাকলেও স্কুলগুলি চালুর জন্য প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর ব্যবস্থা সম্পন্ন হলেই নতুন স্কুলগুলিতে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। 

বর্তমানে ত্রিপুরায় কতগুলি EMRS রয়েছে? 

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ত্রিপুরায় ১২টি EMRS কার্যকর ছিল। একই সময়ে গোটা দেশে মোট ৫০৮টি EMRS চালু ছিল। 

EMRS-এর মূল উদ্দেশ্য হল আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছনোর সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত, সেখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের আবাসিক স্কুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

ছয়টি নতুন স্কুল চালু হলে ত্রিপুরায় কার্যকর EMRS-এর সংখ্যা ১৮-তে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে নভেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও কর্মী ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে। 

নতুন স্কুলগুলির নির্মাণকাজ কতটা এগিয়েছে? 

জনজাতি কল্যাণ দফতরের অধিকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছয়টি নতুন EMRS-এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু ক্যাম্পাসে সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। 

স্কুলগুলি দ্রুত চালু করার ক্ষেত্রে এখন অন্যতম বিষয় হল শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ বা মোতায়েন। নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পুরনো EMRS থেকে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের সাময়িকভাবে নতুন স্কুলগুলিতে মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে National Education Society for Tribal Students (NESTS)। 

এর ফলে নতুন স্কুলগুলির কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে কর্মীসংক্রান্ত সমস্যা সাময়িকভাবে সামলানো সম্ভব হতে পারে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। 

নতুন EMRS-এ ভর্তি পরীক্ষা কি হয়ে গেছে? 

হ্যাঁ। নতুন ছয়টি EMRS-এর জন্য ভর্তি পরীক্ষা ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জনজাতি কল্যাণ দফতরের অধিকর্তা জানিয়েছেন। ফলে স্কুলগুলি চালু করার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। 

এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ নতুন ক্যাম্পাস চালুর পর আবার দীর্ঘ সময় ধরে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সমস্যা হতে পারে। আগে থেকেই ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় স্কুল চালুর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার পথ কিছুটা সহজ হতে পারে। 

EMRS শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়গুলির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল আবাসিক শিক্ষার ব্যবস্থা। অর্থাৎ দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলের সঙ্গে যুক্ত আবাসিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। 

ত্রিপুরার মতো পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে এমন রাজ্যে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া কঠিন হতে পারে। আবাসিক স্কুল সেই সমস্যার একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান দিতে পারে। 

এর পাশাপাশি স্কুলে নিয়মিত পড়াশোনা, আবাসন এবং অন্যান্য সহায়ক পরিকাঠামোর সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে নতুন স্কুলগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে শিক্ষক-কর্মী, পরিকাঠামো, শিক্ষার মান, আবাসিক ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকির ওপর। 

দুটি নতুন EMRS-এর জন্য ₹১০০ কোটি অনুমোদন 

নতুন EMRS সম্প্রসারণের সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের নির্মাণ পরিকল্পনাও রয়েছে। 

NESTS মুঙ্গিয়াকামি, খোয়াই জেলা এবং দাসদা, উত্তর ত্রিপুরা-তে দুটি নতুন EMRS ক্যাম্পাসের জন্য মোট ₹১০০ কোটি অনুমোদন করেছে। প্রতিটি স্কুলের জন্য ₹৫০ কোটি করে বরাদ্দ রয়েছে। 

অর্থাৎ ত্রিপুরায় EMRS-এর পরিকাঠামো সম্প্রসারণ শুধুমাত্র বর্তমান ছয়টি স্কুল চালুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরবর্তী সময়েও নতুন ক্যাম্পাস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। 

দাসদায় ৪৮০ আসনের নতুন EMRS নির্মাণের জন্য পৃথক সরকারি টেন্ডারও প্রকাশিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলার ইঙ্গিত দেয়। 

নির্মাণ খরচ নিয়ে কী জানা গেল? 

জনজাতি কল্যাণ দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি EMRS ক্যাম্পাস নির্মাণে Central Public Works Department বা CPWD-এর হিসাব ₹৭০ কোটির বেশি হতে পারে। অন্যদিকে NESTS-এর অনুমোদিত বাজেট প্রতি স্কুলে ₹৫০ কোটি। 
ত্রিপুরা হাউজিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন বোর্ড (THCB) একই ধরনের একটি ক্যাম্পাস প্রায় ₹৫৪ কোটিতে নির্মাণ করা সম্ভব বলে হিসাব করেছে। 

নতুন EMRS প্রকল্প বাস্তবায়নে CPWD-এর পাশাপাশি অন্য নির্মাণ সংস্থাকে যুক্ত করার অনুমোদনও পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলিতে নির্মাণ পদ্ধতি ও সংস্থার ক্ষেত্রে আরও বিকল্প তৈরি হতে পারে। 

প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে? 

ছয়টি নতুন EMRS চালু হলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে আবাসিক শিক্ষার পরিধি বৃদ্ধি। 

বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য কাছাকাছি আবাসিক স্কুলের সুযোগ তৈরি হলে উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ বাড়তে পারে। 

এর পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও কিছু সুবিধা তৈরি হতে পারে। দূরের শহর বা অন্য এলাকায় সন্তানকে পড়াতে পাঠানোর পরিবর্তে নিজ রাজ্যের আবাসিক স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া পরিবারের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। 

তবে এই সুবিধার বাস্তব প্রভাব বোঝার জন্য নতুন স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক, কর্মী, আবাসিক পরিকাঠামো এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। 

নভেম্বরেই কি সব ৬টি স্কুল চালু হবে? 

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে ছয়টি নতুন EMRS চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী কিছু ক্যাম্পাসে সামান্য কাজ এবং কর্মী ব্যবস্থাপনা এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

তাই এটিকে আপাতত সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য হিসেবে দেখা উচিত। বাস্তবে প্রতিটি স্কুলের কার্যক্রম শুরু হওয়ার তারিখ প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করতে পারে। 

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য 

       • নতুন EMRS: ৬টি 
       • চালুর লক্ষ্য: নভেম্বর ২০২৬ 
       • বর্তমানে কার্যকর EMRS: ১২টি 
       • নতুনগুলি চালু হলে সম্ভাব্য মোট: ১৮টি 
       • নতুন স্কুলের নির্মাণ: প্রায় সম্পূর্ণ 
       • ভর্তি পরীক্ষা: ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত 
       • কর্মী ব্যবস্থাপনা: NESTS-এর অনুমোদনে বিদ্যমান EMRS থেকে সাময়িক কর্মী মোতায়েনের ব্যবস্থা 
       • নতুন দুটি ক্যাম্পাস: মুঙ্গিয়াকামি, খোয়াই এবং দাসদা, উত্তর ত্রিপুরা 
       • দুটি নতুন ক্যাম্পাসের অনুমোদিত অর্থ: ₹১০০ কোটি 

ত্রিপুরার শিক্ষাক্ষেত্রে কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ? 

ত্রিপুরায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার সুযোগের বিস্তার ঘটাতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল, আবাসন এবং নিয়মিত শিক্ষার পরিবেশ একসঙ্গে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে শুধু নতুন স্কুল তৈরি করলেই শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত ক্লাস, ছাত্রাবাসের সুষ্ঠু পরিচালনা, পুষ্টিকর খাবার, নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল—সবকিছুর ওপর নজর রাখা প্রয়োজন। নভেম্বরে ছয়টি নতুন EMRS কার্যকর হলে ত্রিপুরায় এই ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে। এখন নজর থাকবে স্কুলগুলির চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যক্রম কতটা দ্রুত শুরু করা যায় তার দিকে। 

BS Khabar 24 News-এর পাঠকদের জন্য এই খবরের মূল কথা হল—ত্রিপুরায় আরও ছয়টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে এগুলি কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। 

🔎 FAQ 

১. ত্রিপুরায় নতুন কতটি একলব্য স্কুল চালু হবে? 

নভেম্বরের মধ্যে আরও ৬টি EMRS চালুর লক্ষ্য রয়েছে। 

২. নতুন স্কুলগুলি চালু হলে ত্রিপুরায় মোট কতটি EMRS হবে? 

বর্তমানে ১২টি কার্যকর রয়েছে। নতুন ৬টি চালু হলে সংখ্যা ১৮ হতে পারে। 

৩. নতুন EMRS-এর ভর্তি পরীক্ষা কি হয়েছে? 

হ্যাঁ, নতুন স্কুলগুলির ভর্তি পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জনজাতি কল্যাণ দফতরের অধিকর্তা জানিয়েছেন। 

৪. EMRS-এর মূল উদ্দেশ্য কী? 

আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। 

৫. মুঙ্গিয়াকামি ও দাসদায় কী হবে? 

এই দুই জায়গায় নতুন EMRS ক্যাম্পাসের জন্য NESTS মোট ₹১০০ কোটি অনুমোদন করেছে।

0 Comments