তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন বিতর্ক: আমন্ত্রণ, BRICS ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন বিতর্ক: আমন্ত্রণ, BRICS ও কূটনৈতিক সফর বাতিল করা মানে নিজের অপরিপক্কতাই জাহির করা, 

তারেক রহমান ভারত সফর ২০২৬, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ও BRICS সম্মেলন


ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর, BRICS সম্মেলনের আমন্ত্রণ এবং BIMSTEC-এর চেয়ার হিসেবে তাঁর ভূমিকা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। 

ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৪ আগস্ট ২০২৬ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে জানান যে, বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফেব্রুয়ারিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একই সময়ে BRICS সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ার হিসেবে। অর্থাৎ দুটি আমন্ত্রণের প্রকৃতি এক ছিল না। 

কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে BRICS সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে BRICS সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; আমন্ত্রণ ছিল BIMSTEC চেয়ারের জন্য। ফলে বাংলাদেশ ওই সম্মেলনে কোনো সরকারি প্রতিনিধি পাঠাবে না বলেও তিনি জানান। 

এখানেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গা। 

আসল সমস্যাটা এখানেই। কোনো দেশের সরকার যদি নিজের পাওয়া কূটনৈতিক আমন্ত্রণের ধরন নিয়েই স্পষ্ট থাকতে না পারে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সেই সরকার আসলে কী নিয়ে দরকষাকষি করছে সেটাই বোঝা মুশকিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একবার প্রোটোকল নিয়ে খুঁতখুঁতে সেজে সফর বাতিল করা মানে নিজের অপরিপক্কতাই জাহির করা, বিশেষ করে যখন কয়েক মাস আগেই নিজের দলের বিবৃতিতে সেই একই সম্পর্ককে "গুডউইল" বলে সেলিব্রেট করা হয়েছে। 

ফেব্রুয়ারির দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ বনাম সেপ্টেম্বরের BRICS বিতর্ক 

প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—ফেব্রুয়ারির দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের আমন্ত্রণ এবং সেপ্টেম্বরের BRICS আউটরিচ আমন্ত্রণ একই বিষয় নয়। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতেই তাঁকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে আগস্টে BRICS সম্মেলনের আউটরিচ সেশনের জন্য তাঁকে BIMSTEC-এর চেয়ার হিসেবে আলাদা আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

তাই “ভারত কোনো দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ দেয়নি”—এমন বক্তব্য ভারতের প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে মেলে না। 

বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে বলেছেন, তারেক রহমানের ভারত সফর দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবেই পরে হতে পারে, যখন দুই দেশের মধ্যে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে। 

অর্থাৎ বিতর্কটি মূলত BRICS সম্মেলনে কোন পরিচয়ে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেটিকে কেন্দ্র করে। 

তাহলে এত বিতর্ক কেন? 

কূটনীতিতে আমন্ত্রণের ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এবং কোনো আঞ্চলিক জোটের চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো—দুটি আলাদা প্রোটোকল। 

বাংলাদেশ সরকার সেই পার্থক্যকে গুরুত্ব দিয়েছে। হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়াই ঢাকার পছন্দ। তিনি বলেছেন, প্রথম সফর বহুপাক্ষিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে হওয়া উচিত নয়। 

রাজনৈতিক সমালোচকেরা অবশ্য প্রশ্ন তুলতে পারেন—যদি দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ আগে থেকেই থাকে, তাহলে BRICS-এর আমন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এতটা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রয়োজন ছিল কি? 

এখানেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দাবি রাখে। 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের বার্তা 

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় গিয়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত চিঠি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। ভারতের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভূমিকার কথাও স্মরণ করা হয়। 

এই ঘটনাকে কূটনৈতিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বলা যায়। কারণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকায় গিয়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ককে পুনর্গঠনের একটি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। 

তাই পরবর্তী সময়ে ভারত সফর নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—দুই দেশের সম্পর্ক কি সত্যিই একটি নতুন ইতিবাচক পর্যায়ে যাচ্ছে, নাকি আবারও রাজনৈতিক সন্দেহ ও প্রোটোকল বিতর্ক সামনে চলে আসছে? 

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিও 

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—দুই দেশের অর্থনীতি পরস্পরের সঙ্গে অনেকটাই যুক্ত। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের রপ্তানি ছিল প্রায় ১১.০৬ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতের আমদানি প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের সংসদীয় নথিতেও এই হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। 

অর্থাৎ বাণিজ্যের ভারসাম্য ভারতের পক্ষে যথেষ্ট বেশি। 

এখানে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিল্পের কাঁচামাল। তুলা, সুতা, কাপড়, যন্ত্রপাতি, কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন intermediate goods বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে ভারতীয় কাঁচামালের গুরুত্ব রয়েছে। 

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প দেশটির রপ্তানি অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ফলে কাঁচামাল সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু আমদানিকারক ব্যবসায়ীর ওপর নয়, রপ্তানি শিল্পের ওপরও পড়তে পারে। 

বিদ্যুৎ: আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ভরতা 

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিদ্যুৎ। 

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের ১,৬০০ মেগাওয়াটের আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়। ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কেন্দ্রের পুরো বিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদি Power Purchase Agreement-এর আওতায় বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত। 

২০২৫ সালে বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহও উল্লেখযোগ্য ছিল। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ দেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ৮.২ শতাংশের সমান ছিল। 

এখানে অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ বিষয়ও মনে রাখা দরকার—বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নির্ভরতার প্রশ্ন নয়; বিদ্যুৎ চাহিদা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন, LNG সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি অর্থনৈতিক। 

গোড্ডা কেন্দ্রের জন্য ভারতের বিকল্প বাজার তৈরির উদ্যোগ 

২০২৫ সালে ভারত সরকার আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ভারতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ করার পরিকল্পনায় অনুমোদন দেয়। এর ফলে বাংলাদেশে সরবরাহের বাইরে ভবিষ্যতে ভারতীয় গ্রিডেও বিদ্যুৎ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। 

এই বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য “তাৎক্ষণিক চাপ” হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। তবে কৌশলগত দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। 

কারণ কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্র যদি একটি মাত্র ক্রেতার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থাকে, তাহলে তার বাণিজ্যিক ঝুঁকি কমে। 

অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। 

সুতরাং দুই দেশের সম্পর্ক যত বেশি বাস্তববাদী ও স্থিতিশীল হবে, উভয় পক্ষের জন্যই সেটি লাভজনক। 

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে বাংলাদেশের সামনে বড় প্রশ্ন 

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘদিনের। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের রপ্তানি যেখানে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল, সেখানে বাংলাদেশ থেকে ভারতের আমদানি ছিল প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার। 

তবে শুধু বাণিজ্য ঘাটতির সংখ্যা দেখলেই পুরো ছবিটি বোঝা যায় না। 

বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে যে তুলা, সুতা, কাপড়, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য শিল্প কাঁচামাল আমদানি করে, তার একটি অংশ আবার বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। পরে সেই পণ্য ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য বাজারে রপ্তানি হয়। 

অর্থাৎ ভারতের কাছ থেকে আমদানি করা কিছু পণ্য বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার অংশ। 

এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই দুই দেশের বাণিজ্যনীতি তৈরি করা দরকার। 

কূটনীতিতে আবেগ নয়, দরকষাকষির দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ 

এখানেই তারেক রহমান সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা। 

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই আত্মসমর্পণ নয়। আবার প্রতিটি বিষয়ে সংঘাত তৈরি করাও কূটনীতি নয়। 

বরং শক্তিশালী কূটনীতি হলো—নিজের স্বার্থ স্পষ্ট রাখা, অন্য দেশের স্বার্থ বোঝা এবং সেই দুইয়ের মাঝখানে বাস্তবসম্মত সমঝোতার জায়গা তৈরি করা। 

BRICS আমন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে তাই দুইভাবে দেখা যায়। 

একদিকে বলা যেতে পারে, ঢাকা সঠিকভাবেই প্রোটোকল ও নিজের রাজনৈতিক মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়েছে। 

অন্যদিকে সমালোচকেরা বলতে পারেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করা যেত। 

শেষ পর্যন্ত কোন ব্যাখ্যাটি সঠিক, তা নির্ভর করবে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফলের ওপর। 

“কূটনৈতিক ভুল” নাকি কৌশলগত অবস্থান? 

এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। 

বাংলাদেশ সরকার বলছে, তারেক রহমানের ভারত সফর হবে দ্বিপাক্ষিকভাবে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে সেই সফর হতে পারে। 

ভারতও জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতেই দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। 

অতএব, এখানে সরাসরি “ভারত আমন্ত্রণ দেয়নি” অথবা “দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ বাতিল হয়ে গেছে”—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া তথ্যসম্মত হবে না। 

বরং প্রকৃত প্রশ্ন হলো—দুই দেশ সেই আমন্ত্রণকে বাস্তব সফরে রূপ দিতে পারছে না কেন? 

এই প্রশ্নের উত্তরই ভবিষ্যৎ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

সামনে কী হতে পারে? 

সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হলো, BRICS বিতর্ক আপাতত আলাদা রেখে ভারত ও বাংলাদেশ একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের প্রস্তুতি নেবে। 

সেই সফরে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, বিদ্যুৎ, ভিসা, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক আস্থার মতো বিষয় সামনে আসতে পারে। 

বাংলাদেশের জন্য ভারতের বাজার ও সরবরাহব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের জন্যও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী—বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ, আঞ্চলিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও বঙ্গোপসাগরীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে। তাই দুই দেশের সম্পর্ককে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিচার করলে বাস্তব চিত্র অসম্পূর্ণ থাকবে। 

শেষ কথা 

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে আসলে দুটি আলাদা বিষয়—ফেব্রুয়ারির দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ এবং সেপ্টেম্বরের BRICS আউটরিচ আমন্ত্রণ। 

ভারতের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। আর BRICS সম্মেলনের জন্য আমন্ত্রণ ছিল BIMSTEC-এর চেয়ার হিসেবে। 

বাংলাদেশ সেই পার্থক্যকে গুরুত্ব দিয়ে BRICS সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বলেছে, উপযুক্ত সময়ে তারেক রহমানের দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর হতে পারে। 

তাই রাজনৈতিক ভাষায় একে কেউ কূটনৈতিক ভুল বলতে পারেন, আবার কেউ বলতে পারেন এটি বাংলাদেশের মর্যাদা ও প্রোটোকল রক্ষার কৌশল। 

কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আবেগের চেয়ে বাস্তব অর্থনীতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, কাঁচামাল, সীমান্ত যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সবকিছুই দুই দেশকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে। 

সুতরাং শেষ প্রশ্নটি তারেক রহমানের উদ্দেশে নয়, বরং ঢাকা ও নয়াদিল্লি—উভয় সরকারের কাছেই: ফেব্রুয়ারির 

দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণকে কি বাস্তব আলোচনায় রূপ দেওয়া হবে, নাকি BRICS-এর প্রোটোকল বিতর্কই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারণ করবে? উত্তরটি এখন সময়ই দেবে। 

FAQ 

১. তারেক রহমানকে কি ভারত দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ দিয়েছিল? 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। 

২. BRICS সম্মেলনে তারেক রহমানকে কোন পরিচয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? 

ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ার হিসেবে BRICS আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। 

৩. বাংলাদেশ কেন BRICS সম্মেলনে যায়নি? 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলাদা আমন্ত্রণ দেওয়া হয়নি; আমন্ত্রণ ছিল BIMSTEC চেয়ারের জন্য। 

৪. তারেক রহমান কি ভবিষ্যতে ভারত সফর করবেন? 

বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে তারেক রহমানের দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর হতে পারে। 

৫. ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের পরিমাণ কত? 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্য ছিল প্রায় ১২.৮৬ বিলিয়ন ডলার; ভারতের রপ্তানি ছিল প্রায় ১১.০৬ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার। 

৬. আদানি গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা কত? 

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কেন্দ্রটির মোট ক্ষমতা ১,৬০০ মেগাওয়াট এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

0 Comments