জেলাস্তরে ‘বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ (VB-GRAM-G) প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন | রেগা শ্রমিকদের হাজিরা ৩০০ টাকা কার্যকর

জেলাস্তরে ‘বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন, রেগা শ্রমিকদের হাজিরা ৩০০ টাকা কার্যকর 

গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ত্রিপুরায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ (VB-GRAM-G) প্রকল্প। এই কর্মসূচির জেলা পর্যায়ের উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী শ্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। 

জেলাস্তরে VB-GRAM-G প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া


এছাড়াও, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার ভিত্তিতে ১ জুলাই থেকে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্প (রেগা/MGNREGA)-এর শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী জে. পি. নাড্ডা। 

এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দরিদ্র পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

  VB-GRAM-G প্রকল্প কী? 

VB-GRAM-G বা Viksit Bharat – Guarantee for Rozgar and Grameen Livelihood Mission হলো গ্রামীণ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরতা এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ। 

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো— 

     • গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। 
     
    • দরিদ্র পরিবারের নিয়মিত আয় নিশ্চিত করা। 

    • স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG)-এর ক্ষমতায়ন। 

    • দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান। 

    • গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন। 

    • নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করা। 

     • স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। 

সরকারের মতে, এই কর্মসূচি "বিকশিত ভারত" গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 

  জেলাস্তরে শুভ উদ্বোধন 

জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সদস্য, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এবং বিপুল সংখ্যক গ্রামীণ বাসিন্দা। 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শ্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরতার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ নতুন সুযোগ পাবেন এবং গ্রামের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। 

তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে উন্নয়নের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করা। 

 রেগা শ্রমিকদের জন্য বড় সুখবর

 
শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হলো রেগা (MGNREGA)-এর দৈনিক হাজিরা বৃদ্ধি। 

১ জুলাই থেকে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা কার্যকর হয়েছে। 

এই সিদ্ধান্তের ফলে— 

    • শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পাবে। 

    • গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। 

    • কর্মসংস্থানের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। 

    • দরিদ্র পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে। 

    • জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। 

বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই সিদ্ধান্ত বহু শ্রমিক পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

  কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?


ভারতের অধিকাংশ গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের জীবিকার একটি বড় অংশ নির্ভর করে রেগা প্রকল্পের ওপর। 

বর্ষাকাল, কৃষিকাজের ফাঁকা সময় কিংবা মৌসুমি বেকারত্বের সময় এই প্রকল্প লক্ষ লক্ষ মানুষের আয়ের উৎস হয়ে ওঠে। 

দৈনিক হাজিরা ৩০০ টাকা নির্ধারণ হওয়ায়— 

    • পরিবারের মাসিক আয় বাড়বে। 

    • খাদ্য নিরাপত্তা উন্নত হবে। 

    • শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তা হবে। 

    • স্বাস্থ্য ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি আসবে। 

    • গ্রামীণ বাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। 

  আজীবিকা মিশনের ভূমিকা 

আজীবিকা মিশনের মাধ্যমে বহু নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য ইতিমধ্যেই ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেছেন। 

এই প্রকল্পের আওতায় গুরুত্ব পাচ্ছে— 

    • ক্ষুদ্র উদ্যোগ 
    
    • কৃষিভিত্তিক ব্যবসা 

    • পশুপালন 

    • হাঁস-মুরগি পালন 

    • মাছ চাষ 

    • হস্তশিল্প 

    • ক্ষুদ্র শিল্প 

    • গ্রামীণ বিপণন ব্যবস্থা এর ফলে গ্রামীণ যুবকদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। 

  নারীদের ক্ষমতায়ন 

VB-GRAM-G প্রকল্পে নারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। 

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে— 

    • ব্যাংক ঋণের সুযোগ বৃদ্ধি 

    • প্রশিক্ষণ 

    • ব্যবসা পরিচালনা 

    • ডিজিটাল লেনদেন 

    • বাজার সংযোগ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হবে। 

ফলে গ্রামের বহু মহিলা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। 

  ত্রিপুরার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

ত্রিপুরার একটি বড় অংশ গ্রামীণ অঞ্চলে অবস্থিত। 

সেখানে কৃষি, বনজ সম্পদ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের ওপর মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। 

VB-GRAM-G প্রকল্প চালু হওয়ায়— 

    • কর্মসংস্থান বাড়বে। 

    • গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নত হবে। 

    • দারিদ্র্য হ্রাস পাবে। 

    • যুবকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। 

   • নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হবে। 

   • স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই প্রকল্প আগামী কয়েক বছরে ত্রিপুরার গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। 

  সরকারের লক্ষ্য 

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে— 

   • প্রত্যেক গ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। 

   • উন্নত গ্রামীণ অবকাঠামো। 

   • স্বনির্ভর পরিবার গঠন। 

   • আধুনিক কৃষি। 

   • দক্ষতা উন্নয়ন। 

   • দারিদ্র্যমুক্ত গ্রাম গড়ে তোলা। 

   • "বিকশিত ভারত" গঠনে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে যুক্ত করা। 

  সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা 

গ্রামের বহু মানুষ আশা করছেন, প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হলে নিয়মিত কাজ পাওয়া সহজ হবে। 

অনেক শ্রমিকের মতে, ৩০০ টাকা দৈনিক হাজিরা কার্যকর হওয়ায় সংসার চালানো কিছুটা সহজ হবে। 

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরাও আশা করছেন, নতুন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ ক্ষুদ্র ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবেন। 

  উপসংহার 

ত্রিপুরায় ‘বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ (VB-GRAM-G) প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১ জুলাই থেকে রেগা শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা ৩০০ টাকা কার্যকর হওয়া গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

মন্ত্রী শ্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার উপস্থিতিতে জেলা পর্যায়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শ্রী জে. পি. নাড্ডার ঘোষণার মাধ্যমে কর্মসংস্থান, আজীবিকা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এখন এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে কত দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, সেদিকেই সবার নজর থাকবে।

0 Comments