ISRO বড় পরিবর্তনের পথে: রকেট ও সাধারণ স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাবে বেসরকারি খাতে, গবেষণায় জোর
নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট ২০২৬: ভারতের মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচিতে আসতে চলেছে এক বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন।
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) ধীরে ধীরে উৎক্ষেপণ যান বা রকেট এবং নিয়মিত ধরনের স্যাটেলাইট তৈরির কাজ থেকে সরে এসে গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ পরিকাঠামো তৈরিতে আরও বেশি মনোযোগ দিতে চলেছে।
ইন-স্পেস (IN-SPACe)-এর চেয়ারম্যান
ড. পবন গোয়েঙ্কার সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরোর ঐতিহ্যগত উৎপাদনমূলক কাজের একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে বেসরকারি শিল্প ও সরকারি সংস্থার হাতে যেতে পারে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে কাজের বিভাজন আরও স্পষ্ট হবে।
তবে এই পরিবর্তনকে সরাসরি ‘ইসরোর বেসরকারিকরণ’ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং পরিণত প্রযুক্তির উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারে শিল্পক্ষেত্রকে আরও বেশি যুক্ত করে ইসরোকে উচ্চঝুঁকির গবেষণা,
নতুন প্রযুক্তি এবং বড় বৈজ্ঞানিক মিশনের দিকে এগিয়ে নেওয়াই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
ইসরোর ভূমিকায় কেন পরিবর্তন আসছে?
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির শুরু থেকে ইসরোকে একই সঙ্গে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, রকেট তৈরি, স্যাটেলাইট নির্মাণ এবং উৎক্ষেপণ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু এখন ভারতের মহাকাশ শিল্প অনেক বেশি পরিণত হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রায় ৪৪০টি মহাকাশ স্টার্টআপ রয়েছে। একই সময়ে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগামী এক দশকে ৪০–৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
ফলে ইসরোর তৈরি এবং ইতিমধ্যে প্রমাণিত প্রযুক্তি যদি বেসরকারি শিল্প বড় পরিসরে উৎপাদন করে, তাহলে ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা আরও উন্নত প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের মিশনে নিজেদের সময় দিতে পারবেন।
ইসরো নিজেও বহু বছর ধরে শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে প্রযুক্তি ভাগ করে কাজ করছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ কর্মসূচিতে শিল্পকে বিভিন্ন উপ-ব্যবস্থা তৈরি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে যুক্ত করার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।
SSLV দিয়ে শুরু হয়েছে বড় পরিবর্তন
এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো Small Satellite Launch Vehicle বা SSLV।
SSLV একটি তিন-ধাপের সম্পূর্ণ সলিড-প্রপেল্যান্ট রকেট, যা নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে (LEO) ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, SSLV-এর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এটি দ্রুত প্রস্তুত করে প্রয়োজন অনুযায়ী উৎক্ষেপণ করা যায় এবং শিল্পক্ষেত্রে বড় সংখ্যায় উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ISRO, NewSpace India Limited (NSIL), IN-SPACe এবং Hindustan Aeronautics Limited (HAL)-এর মধ্যে SSLV প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিযোগিতামূলক বিডিং প্রক্রিয়ার পর HAL-কে এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, এটি কেবল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নয়—প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যেই বাস্তবে শুরু হয়ে গেছে।
HAL-এর হাতে SSLV প্রযুক্তি হস্তান্তরের গুরুত্ব
হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা HAL ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সংস্থা। SSLV প্রযুক্তি পাওয়ার ফলে বেসরকারি শিল্পের পাশাপাশি একটি বড় সরকারি শিল্প সংস্থাও ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে।
IN-SPACe-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদ্দেশ্য হলো ভারতীয় শিল্পকে SSLV নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে end-to-end সক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করা।
২০২৬ সালের আগস্টে ইসরো SSLV-এর প্রথম ধাপের উন্নত সংস্করণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাউন্ড স্ট্যাটিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। নতুন সংস্করণে কিছু নকশাগত পরিবর্তন করা হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পাশাপাশি রকেটটির পেলোড সক্ষমতা প্রায় ১০০ কেজি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ইসরো জানিয়েছে।
এটি দেখিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি শিল্পের হাতে গেলেও ইসরোর গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ থেমে যাচ্ছে না।
ইসরো তাহলে কী করবে?
নতুন ব্যবস্থায় ইসরোর মূল লক্ষ্য হবে এমন প্রযুক্তি তৈরি করা যা এখনো বাণিজ্যিকভাবে পরিণত হয়নি বা যেগুলো অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন।
এর মধ্যে থাকতে পারে—
• নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি
• উন্নত মহাকাশযান প্রযুক্তি
• মানব মহাকাশ অভিযান
• চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযান
• গভীর মহাকাশ গবেষণা
• মহাকাশ স্টেশন সংক্রান্ত প্রযুক্তি
• পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ যান
• উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি
• মহাকাশভিত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা
• নতুন ধরনের মহাকাশ পরিকাঠামো
অর্থাৎ, ইসরো ভবিষ্যতে ‘সবকিছু নিজে তৈরি করা’ সংস্থা হওয়ার পরিবর্তে নতুন প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।
সাধারণ স্যাটেলাইট তৈরিতেও আসবে শিল্পের বড় ভূমিকা
শুধু রকেট নয়, সাধারণ বা পরিণত ধরনের স্যাটেলাইট তৈরির ক্ষেত্রেও শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
২০২৩ সালেই ইসরো তার IMS-1 Satellite Bus প্রযুক্তি বেসরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছিল। NSIL-এর মাধ্যমে এই প্রযুক্তি Alpha Design Technologies Pvt. Ltd.-কে দেওয়া হয়। ইসরোর মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদ্দেশ্য হলো মহাকাশ শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভারতীয় শিল্পকে মহাকাশ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
এখন এই প্রবণতা আরও বড় আকার নিতে পারে।
ফলে ভবিষ্যতে ইসরো নতুন স্যাটেলাইটের নকশা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্র এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, আর ইতিমধ্যে প্রমাণিত প্রযুক্তির বাণিজ্যিক উৎপাদন শিল্পের হাতে যেতে পারে।
ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?
ভারত মহাকাশ অর্থনীতিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করতে চাইছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী এক দশকে এটি ৪০–৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
ভারত মহাকাশ অর্থনীতিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করতে বেসরকারি শিল্পের অধীনে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে অতি দ্রুত কাজ করার জন্য বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ।
এই লক্ষ্য পূরণে শুধু সরকারি সংস্থার পক্ষে সমস্ত উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কাজ করা সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি সংস্থাগুলি রকেট ও স্যাটেলাইটের উৎপাদনে যুক্ত হলে—
প্রথমত, উৎপাদনের গতি বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, উৎক্ষেপণের খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তৃতীয়ত, ছোট স্যাটেলাইটের জন্য আরও বেশি উৎক্ষেপণ পরিষেবা তৈরি হতে পারে।
চতুর্থত, দেশীয় মহাকাশ শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের মহাকাশ পরিষেবার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
স্টার্টআপগুলির জন্যও বড় সুযোগ
ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন স্টার্টআপের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। রকেট, স্যাটেলাইট, স্পেস ডেটা, মহাকাশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে নতুন সংস্থাগুলি কাজ করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রায় ৪৪০টি মহাকাশ স্টার্টআপ রয়েছে। একই সঙ্গে IN-SPACe শিল্প ও স্টার্টআপগুলির কাছে ইসরোর প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত IN-SPACe-এর মাধ্যমে শিল্প ও স্টার্টআপগুলিকে ৭১টি ISRO প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি তথ্য জানায়।
এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় মহাকাশ শিল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শুধু বেসরকারি সংস্থা নয়, NSIL-এরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
এই পুরো ব্যবস্থায় NewSpace India Limited বা NSIL গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। NSIL হলো ভারত সরকারের মালিকানাধীন সংস্থা এবং এটি ইসরোর বাণিজ্যিক শাখা হিসেবে কাজ করে।
NSIL-এর অন্যতম কাজ হলো শিল্পের মাধ্যমে PSLV ও SSLV উৎপাদন, মহাকাশ পরিষেবার বাণিজ্যিকীকরণ এবং ইসরোর প্রযুক্তি শিল্পের কাছে হস্তান্তরে সহায়তা করা।
অর্থাৎ, ইসরো গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে এগিয়ে থাকবে, IN-SPACe বেসরকারি মহাকাশ কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তা করবে এবং NSIL বাণিজ্যিকীকরণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ভূমিকা পালন করবে।
এতে কি ইসরোর গুরুত্ব কমবে?
একেবারেই নয়। বরং ইসরোর ভূমিকা আরও কৌশলগত হতে পারে।
যে কাজগুলি ইতিমধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে পরিণত এবং শিল্পক্ষেত্রে করা সম্ভব, সেগুলির উৎপাদন যদি শিল্পের হাতে যায়, তাহলে ইসরো নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করতে পারবে।
উদাহরণ হিসেবে, ইসরো এখন চাঁদ, মহাকাশে ডকিং, মানব মহাকাশ অভিযান এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাজ করছে। ২০২৫ সালের SpaDeX মিশনে ভারত মহাকাশে ডকিং ও আনডকিং প্রযুক্তি সফলভাবে প্রদর্শন করে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে এই সক্ষমতা অর্জন করে।
এই ধরনের জটিল প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য বিপুল গবেষণা, পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাই উৎপাদনের কিছু দায়িত্ব শিল্পের হাতে দেওয়া ইসরোর গবেষণার ক্ষমতা বাড়াতেই সাহায্য করতে পারে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়
বেসরকারি খাতকে মহাকাশ শিল্পে আরও বেশি যুক্ত করার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও থাকবে।
মহাকাশ প্রযুক্তি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত ক্ষেত্র। তাই গুণমান নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা, উৎক্ষেপণের নির্ভরযোগ্যতা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া বেসরকারি সংস্থাগুলিকে বড় পরিমাণে বিনিয়োগ, দক্ষ কর্মী এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
ইসরোর মতো প্রতিষ্ঠানের বহু দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত মান বজায় রেখে শিল্পকে দ্রুত উৎপাদনে নিয়ে যাওয়াই হবে বড় পরীক্ষা।
সামনে কী হতে পারে?
বর্তমান প্রবণতা দেখে বলা যায়, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি আগামী কয়েক বছরে একটি নতুন কাঠামোর দিকে এগোবে। ইসরো থাকবে গবেষণা ও উন্নয়নের কেন্দ্রে, আর শিল্পক্ষেত্র ক্রমশ উৎপাদন ও বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিষেবায় বড় ভূমিকা নেবে।
SSLV-এর প্রযুক্তি হস্তান্তর এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সরকারি নথি অনুযায়ী, HAL-এর সঙ্গে SSLV প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং শিল্পের মাধ্যমে এর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর ফলে ভারত শুধু নিজস্ব মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে না, আন্তর্জাতিক ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাজারেও আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
উপসংহার
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ইসরোর সম্ভাব্য এই কাঠামোগত পরিবর্তন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রকেট ও পরিণত স্যাটেলাইট প্রযুক্তির উৎপাদনে শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে ইসরো যদি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক অভিযানে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের মহাকাশ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
SSLV প্রযুক্তি HAL-এর কাছে হস্তান্তর ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে নতুন মহাকাশ স্টার্টআপ, বেসরকারি সংস্থা এবং সরকারি বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিকে আরও বড় করে তুলতে পারে।
তবে এটিকে ‘ইসরোর বেসরকারিকরণ’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে ইসরোর ভূমিকার পুনর্বিন্যাস এবং ভারতীয় মহাকাশ শিল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। ভবিষ্যতে ইসরো নতুন প্রযুক্তির পথ দেখাবে, আর ভারতীয় শিল্প সেই প্রযুক্তিকে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাণিজ্যিক পরিষেবায় রূপ দিতে পারে।
FAQ :
১. ISRO-তে কী ধরনের বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে?
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) তার কাজের ধরনে বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। সাধারণ রকেট ও স্যাটেলাইট তৈরির মতো নিয়মিত উৎপাদনমূলক কাজের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থাগুলোর হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ISRO গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারবে।
২. রকেট তৈরির দায়িত্ব কি পুরোপুরি বেসরকারি সংস্থার হাতে চলে যাবে?
না। এর অর্থ ISRO রকেট তৈরির কাজ পুরোপুরি ছেড়ে দেবে এমন নয়। বরং বাণিজ্যিক ও নিয়মিত উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিল্পকে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া হবে। ISRO মূলত উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা ও জটিল মহাকাশ মিশনের দিকে বেশি মনোযোগ দেবে।
৩. সাধারণ স্যাটেলাইট তৈরিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা কী হবে?
সাধারণ বা প্রচলিত ধরনের স্যাটেলাইট তৈরিতে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। এতে উৎপাদন দ্রুত করা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিষেবা সম্প্রসারণে সুবিধা হতে পারে।
৪. এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য কী?
মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতের মহাকাশ খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করা। ISRO যাতে প্রতিটি উৎপাদনমূলক কাজ নিজে না করে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উন্নয়নে বেশি সময় দিতে পারে, সেটিই এই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য।
৫. এতে ISRO-এর গবেষণায় কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?
নিয়মিত উৎপাদনের চাপ কমলে ISRO চাঁদ, মঙ্গল, গভীর মহাকাশ, মানব মহাকাশ অভিযান, উন্নত উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি এবং নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে আরও বেশি গবেষণা করতে পারবে।
0 Comments